“১৭ মার্চের পর অনলাইন পোর্টালগুলোর রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার চেষ্টা করব”

88

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১৭ মার্চের পর থেকে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন অনেক প্রতিষ্ঠিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল আছে। সবগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে পাইনি। তাই একটু অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’বুধবার (৪ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক শাহ আলমগীরের ওপরে লেখা ‘স্বপ্নের সারথি শাহ আলমগীর’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর রেজিস্ট্রেশন করার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে। আইপি টিভিগুলোকেও আমরা রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার কথা বলেছি। এখানে ৫০০-এর বেশি আবেদন পড়েছে। আমরা অনেক আগে থেকেই রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু পারিনি। কারণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন আমরা পাইনি। বারবার তাগাদা দেওয়ার পর কিছু সংখ্যক প্রতিবেদন পেয়েছি। একটি সংস্থা থেকে এক হাজারের বেশি, আরেকটি সংস্থা থেকে একশ’র কম প্রতিবেদন পেয়েছি। সুতরাং, একটি সংস্থার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তো রেজিস্ট্রেশন দেওয়া যায় না, সেজন্য আরেকটু সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কিছু প্রতিষ্ঠিত অনলাইন পোর্টাল আছে। সেগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু যাদের তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছি, তাদের দিতে চাচ্ছি না। প্রতিষ্ঠিত অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে প্রথম ধাপেই রেজিস্ট্রেশন দিতে চাই। তাদের রিপোর্ট যেন দ্রুত আসে, সেজন্য অপেক্ষা করছি। ১৭ মার্চের পরে থেকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার চেষ্টা করবো। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসলে মিডিয়াগুলোতে শৃঙ্খলা আসবে।’

ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সবার আগে সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতা আছে। সেটি করতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায়, সংবাদের গুণগত মান নষ্ট হয়। অনলাইনে এটা বেশি হয়। কার আগে কে প্রকাশ করবে, সেটা নিয়ে প্রতিযোগিতা। এটি করতে গিয়ে অনেক সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ হয় না। অনেক সময় ভুল সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রেস ইনস্টিটিউট ও প্রেস কাউন্সিলকে—শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, ঢাকার বাইরে বড় বড় শহরে কর্মশালা করার কথা। অনেক ক্ষেত্রে একটা যেনতেন অনলাইনে অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকতার আড়ালে অন্য কিছু করে। এগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।’

সাংবাদিক শাহ আলমগীরের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ বাড়ছে, কিন্তু ভালো মানুষের সংখ্যা কমছে। আর মানুষ প্রচণ্ডভাবে আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছে। নিজেকে নিয়ে ভাবে। আর সব মানুষের মাঝে এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা, সেটা হচ্ছে কাকে ছেড়ে কে ওপরে উঠবে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ভালো মানুষ খুবই প্রয়োজন। শাহ আলমগীরের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখবার আছে।  তিনি নির্লোভ, নির্মোহ এবং প্রচারবিমুখ একজন মানুষ ছিলেন। তিনি সহকর্মীদের জন্য ছিলেন সহায়ক। সমাজে তার মতো মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজন আছে।’অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন