Breaking News

‘তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে, ফেরতের দায় জনগণের’

বাংলাদেশের চাওয়া সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘বেইল আউট’ নিয়ে আইএমএফ’-এর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় নয় দিন ধরে আলোচনার পর এই অগ্রগতির ফলে এখন দ্বিতীয় প্রতিনিধি দল ঢাকা আসবে। ইতিমধ্যেই আইএমএফ-এর শর্তগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে যা বলা হচ্ছে সেগুলো নতুন কিছু নয় এই অর্থে যে এগুলো নিয়ে দেশের ভেতরে গত কয়েক বছর ধরেই বলা হচ্ছিলো। যারা বলছিলেন তাদের কথা সরকার শোনেন নি, সরকার সমর্থকরা এই বক্তব্যগুলোকে ‘দেশ বিরোধী’ ‘উন্নয়ন বিরোধী’, এমন কি ‘রাষ্ট্র বিরোধী’ বলেও অভিহিত করেছেন। দুর্ভাগ্যজনক যে, যাদের এই প্রশ্নগুলো করা দরকার ছিল সেই অর্থনীতিবিদদের এক বড় অংশ এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেছেন।

আইএমএফ-এর প্রাথমিক শর্তগুলোর মোদ্দা কথা হচ্ছে দুর্নীতি, বেহিসেবি ব্যয় এবং অবাধ লুন্ঠনের যে মহোৎসব চলেছে তা বন্ধ করতে হবে। ঠিক এই ভাষায় আইএমএফ বলতে পারেনা, তাদের সেই এখতিয়ার নেই; ফলে তাদের ভাষায় এখন হিসেব চাওয়া হয়েছে জ্বালানি খাতে দেয়া ভর্তুকি কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কোভিড মোকাবেলায় প্রণোদনার নামে যে টাকা দেয়া হয়েছে তার হিসেব কোথায়, আর মেগা প্রকল্পে ‘অতি-মুল্যায়ন’ – সহজ ভাষায় অতিরিক্ত ব্যয় – কেনো হয়েছে। এগুলোতে স্বচ্ছতার কথাও বলা হয়েছে। এই সব শর্ত আলোচনার প্রথম ধাপেই এসেছে, সামনে আর কী কী তাতে যুক্ত হবে আমরা তা জানিনা।

শর্তগুলোর যৌক্তিকতা আছে কীনা সেটা বিবেচনা করুন। আইএমএফ-এর কাছে অর্থ নেয়ার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে কেনো সেটা ভাবুন।
আর এটাও মনে রাখুন সরকার কেবল যে আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংকের কাছেই টাকা চেয়েছে তা নয়, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারদের কাছেও বাংলাদেশ অর্থ চেয়েছে। তার পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি। গত বছরগুলোতেও বাংলাদেশ এই ধরণের ঋণ নিয়েছে। অথচ বলা হয়েছে উন্নয়নের রেলগাড়ী বুলেট গতিতে এগুচ্ছে।

একটি অস্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই সব ঋণ নেয়া হচ্ছে। এর জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নেই। এমন কি সাজানো সংসদে এই নিয়ে কোনও ধরনের আলোচনা পর্যন্ত হচ্ছে না। এইসব হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন আমরা জানি যে ইতিমধ্যে যে ঋণ আছে সেগুলোর কারণে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। এই সব অর্থ ফেরত দেয়ার দায় জনগণের। আগামীতে প্রতিটি পয়সা হিসেব করে ফেরত দিতে হবে। কিন্ত এই নিয়ে তাদের জানানোর পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেই। সংকটের মাত্রাটা বোঝা দরকার, সামনে কী ধরণের পরিস্থিতির সূচনা হতে পারে সেই বিষয়ে ভাবা দরকার।

[লেখকঃ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর, আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট। লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া]

Check Also

শেখ হাসিনার সুনাম রাখতে গ্রেপ্তার, খালেদ খালেদ মুহিউদ্দীনের পরামর্শ

শেখ হাসিনার উদ্দেশে আমার কিছু কথা আছে৷ আপনার নাগাল পাচ্ছি না বলে ফর রেকর্ড এখানেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.