Categories
রাজনীতি

তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা বিএনপি জামায়াত

‘মির্জা ফখরুল সাহেব খুঁজলে পাবেন, তাদের মন মানসিকতা সম্পন্ন শীর্ষ পর্যায়ের যে ব্যবসায়ী, তারাই তেলে আমদানি করেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সমপর্ক নেই।…মির্জা ফখরুল সাহেবের যে কোনো ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, এই জন্য তারা খুঁজে খুঁজে বের করেন।’

বিএনপি মনোভাবাপন্ন ব্যবসায়ীরাই ভোজ্য তেল আমদানিতে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। বলেছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।সোমবার কুষ্টিয়ার সাদ্দামবাজারে নব নির্মিত জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি অফিস ভবন উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতার কাছে জানতে চান সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়ে।
ফখরুল অভিযোগ করেন, সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আঁতাতের কারণে।
জবাবে হানিফ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব খুঁজলে পাবেন, তাদের মন মানসিকতা সম্পন্ন শীর্ষ পর্যায়ের যে ব্যবসায়ী, তারাই তেলে আমদানি করেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সমপর্ক নেই।’

তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের যে কোনো ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, এই জন্য তারা খুঁজে খুঁজে বের করেন।
‘মির্জা ফখরুল সাহেব দেখেননি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি আজকে একটা অস্থিতিশীল অবস্থায় চলে গেছে? কেবল তেলের দাম নয়, গ্যাস থেকে শুরু করে, সার প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে।

‘গ্লোবালি যে জিনিসপত্রের দাম, বাজার যে অস্থিতিশীল, সেটার ইফেক্টটা তো বাংলাদেশ শুধু নয়, সারা বিশ্বই অস্বস্তির মধ্যে আছে। এটা তো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে খবরে আসছে।

‘মির্জা ফখরুল সাহেব যদি অন্ধের মতো বসে থাকেন, বহির্বিশ্বের খোঁজ খবর না রাখেন, তাহলে তার কাছ থেকে এই ধরনের উক্তি আসাটাই স্বাভাবিক।’সয়াবিন তেলের ইস্যু এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি। আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতির পর গত এক বছরে দর বেড়ে দেড় গুণের বেশি হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, বাজার থেকে তেল অনেকটাই উধাও হয়ে গেছে।

গত মার্চে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকার ফিরিয়ে দেয়ার পর বাজারে সয়াবিন তেল সরবরাহ কমে গিয়েছিল অনেকটা। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় ঈদের আগে আগে।

তেল আমদানিতে বিএনপি মনমানসিকতার ব্যবসায়ীরা: হানিফ
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। ছবি: নিউজবাংলা
এবার তেল একেবারে উধাও হয়ে যায়। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বোতলজাত তেল লিটারে ৩৮ টাকা আর খোলা তেল ৪৪ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসে। এর পরেও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

বিভিন্ন জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে গুদাম থেকে এমনকি বাসা থেকে মজুত করা বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদের আগে না ছাড়লেও দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার পর বাড়তি দামে তেল ছাড়া হয়। সেই বোতলের গায়ের দাম লিটারে ১৬০ টাকাই লেখা। তবে দোকানভেদে ২২০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে আসবে

বিএনপি মুখে যাই বলুক না কেন, তারা নির্বাচনে আসবেই বলে মনে করেন হানিফ। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় বলে এসেছে, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক করার জন্য যা যা করার দরকার সরকারের পক্ষ থেকে সবটুকু করা হবে।’

বিএনপির ভোটে অংশ না নেয়ার কারণ নেই বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। বলেন, ‘২০১৮ সালেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। যে নির্বাচনে অংশ নেয় নাই ২০১৪ সালে, সেখানে মূল যেটা কারণ ছিল, সেটা হলো, তাদের সহযোগী যে দল জামায়াতে ইসলামী, তাদের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত হয়ে… অনেকের রায় কার্যকর ছিল. অেনেকে পলাতক ছিল। সে সময় জামায়াত নির্বাচনে যায় নাই বলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই। এর বাইরে তো আর কোনো কারণ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন রাজনৈতিক কারণে যে কথাই বলুক না কেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক হবে।’
তারা তো বলেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না- এমন প্রশ্নে হানিফ বলেন, ‘তারা অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে।‘

অন্য এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘যে দলের শীর্ষ নেতা নেত্রী এতিমের টাকা আত্মসাত করে কারাগারে এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মামলায় বিদেশে পলাতক, সে দেশের নেতারা অন্য দলের সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারাটা দেখার দরকার।
‘আওয়ামী লীগ দেশের একমাত্র দল যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং স্বাধীনতাউত্তর একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে।’

‘আওয়ামী লীগ কোনো ফন্দি ফিকির করে না। নির্বাচন নিয়ে ফন্দিফিকির করার অভ্যাস বিএনপির আছে, সেটা জনগণ দেখেছে। ক্ষমতায় আকড়ে থাকার জন্য তারা ১৯৯৬ সালে কী করেছিল, সেটাও দেশবাসী দেখেছে এবং ২০০৬ সালের শেষভাগে এসে তাদের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তারা যে নাটক করেছিল, সেটাও দেশবাসী দেখেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.