পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার সম্ভবনা, কিসের ইঙ্গিত জানালেন কাদের

পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার সম্ভবনা, কিসের ইঙ্গিত জানালেন কাদের

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বিপরীত অবস্থান নিয়েছে যা রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপি মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম করছে কিন্তু প্রতিহত করার গিয়ে ক্ষমতাসীনরা সংঘাতে জড়াচ্ছে। বার বার মামা বাড়ির আবদার নিয়ে হাজির হন ফখরুল সাহেব বলে মন্তব্য করে যা বললেন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব আবারো সরকারের পদত্যাগ দাবি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। বার বার মামা বাড়ির আবদার নিয়ে হাজির হন ফখরুল সাহেব।
তিনি বলেন, সরকার পদত্যাগ করবে কেন? আওয়ামী লীগ জনমতকে সম্মান করে। জনগণ আওয়ামী লীগকে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। মেয়াদ শেষে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।
সোমবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।
‘পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ মির্জা ফখরুলের হুঁশিয়ারির জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীকে এখন নতুন করে প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে বিএনপি।তাদের এ থেকে প্রমাণ হয় তারাই তথাকথিত নিষেধাজ্ঞা ষড়যন্ত্রের হোতা। তারাই র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছিল। এএখন পুলিশ বাহিনীকেও হু/মকি-ধামকি দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের নামে তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, পুলিশের ওপর হামলা করবে আর পুলিশ কি চেয়ে থাকবে? রাষ্ট্রের জনগণ ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ কি বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালন করবে না? হ/ত্যা, ষ/ড়যন্ত্র ও স/ন্ত্রাসের রাজনীতির ফল ভোগ করছে বিএনপি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখনো অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। তারা তাদের অতীতের ভুলের মাশুল দিচ্ছে। এরপরও গণতন্ত্রের পথে না ফিরলে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব আবারো সরকারের পদত্যাগ দাবি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। বার বার মামা বাড়ির আবদার নিয়ে হাজির হন ফখরুল সাহেব। সরকার কেন পদত্যাগ করবে? আওয়ামী লীগ জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জনগণ আওয়ামী লীগকে পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। মেয়াদ শেষে যথাসময়ে সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই, তাই সরকার পরিবর্তন করতে চাইলে নির্বাচনে আসুন। নির্বাচনই নির্ধারণ করবে কে ক্ষমতায় থাকবে আর কে থাকবে না। ফখরুল সাহেবের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি একটি নিষ্পত্তিকৃত বিষয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন জাদুঘরে। একটি নিষ্পত্তি করা সমস্যা পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন নেই।
‘‘এখনকার পার্লামেন্ট গৃহপালিত’ বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় সংসদকে নিয়ে ফখরুল সাহেবের এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত এবং জাতীয় সংসদের জন্য অবমাননাকর। আপনি যে সংসদকে গৃহপালিত বলছেন সেই সংসদে তো বিএনপির জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তবে তারা কি গৃহপালিত?

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, এ ধরনের অবান্তর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা তাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমরা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানাবো, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য পরিহার করুন এবং গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি মেনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করুন।’
প্রসঙ্গত, ক্ষমতার উৎস দেশের জনগন তারা যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে তারাই ক্ষমতায় আসবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়দুর কাদের। তিনি আরোও বলেন, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net