রাজশাহীতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘ঝাড়ু হাতে’ ভারতীয় হাইকমিশনার

BPL 2023 লাইভ দেখুন এই লিংকে  rtnbd.net/live

রাজশাহীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারির পদ্মা লাইব্রেরি থেকে আলুপট্টি পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার ঝাড়ু হাত অংশ নেন। তিনি রাস্তায় পড়ে থাকা বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা ঝাড়ু দিয়ে নিজ হাতে পরিষ্কার করেন এবং সেগুলো রাস্তা থেকে বস্তায় ঢুকিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। এ ছাড়াও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার বলেন, বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতে প্রতিবছর ১৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের ভারতীয় হাইকমিশন এবং সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়েও দিবস উপলক্ষে প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা উদযাপন করা হয়। আজকেও রাজশাহীতে এই অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, মূলত আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সরে যাওয়া। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার কিংবা অন্য প্রার্থী জয়ী হলে সেক্ষেত্রে দলীয় কৌশল বাস্তবায়ন হবে, যেটি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা।

এ আসনে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হওয়া আট প্রার্থী হলেন, পদত্যাগ-পরবর্তী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ ও জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জুয়েল।

মনোনয়ন বাতিল হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন মন্তু, শাহ মফিজ, মোহন মিয়া ও আব্দুর রহিম। হলফনামায় সাক্ষর, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট দাখিল না করাসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনীতিবিদ বলেন, ‘মূলত কৌশলগত কারণে এখানে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা। আব্দুস সাত্তারের জয়লাভের মধ্য দিয়ে যেন এখানে তার ইমেজ ঠিক থাকে এর সুযোগ নিতে চায় আওয়ামী লীগ। কেননা, আওয়ামী লীগ মনে করছে আব্দুস সাত্তারের চেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রুমি ফারহানা। পরবর্তী নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার থাকলে আওয়ামী লীগের জন্য জয়লাভ অনেকটা সহজ হবে। এছাড়া বিএনপি’র হয়ে পাঁচবারের এমপি হওয়া ব্যক্তি ভোটে দাঁড়িয়ে পাস করানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনা যাবে।

বিএনপি নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মনে করেন, সরকার বিএনপি সংসদ সদস্যদের পদত্যাগকে বিতর্কিত করতে আব্দুস সাত্তারকে নির্বাচনে আনা হয়েছে। সরকার সেটা সফলভাবে করেছে। তাকে চাপ দিয়ে এই নির্বাচনে আনা হয়েছে। আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালের পর ওই সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি। সারা দেশে যখন আওয়ামী লীগের জোয়ার তখনো (২০১৮) জোটের মারপ্যাঁচে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় সেখানে নিজেদের প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। সেখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ভরাডুবি হয়। নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া জয়লাভ করেন, যিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য। ব্যক্তিগত ও এলাকায় দলীয় অবস্থান বিবেচনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে সামান্য ভোটে হেরে যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. মঈন উদ্দিন মঈন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ায় আওয়ামী লীগের ওই নেতা হেরে যান বলে মনে করা হয়।

ভোটের আগে বেশ আলোচনায় আসেন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা পাঁচবারের সংসদ সদস্য ৮৪ বছর বয়সি আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করে ক্ষোভে দল থেকে পদত্যাগ করেন। তার নামে কেনা হয় মনোনয়নপত্র। এর পরপরই তাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। সর্বশেষ সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে মোট ভোটার দুই লাখ ৩৭ হাজার ১৫৩ জন। আশুগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ভোট সংখ্যা এক লাখ ৩২ হাজার ৯৭০টি। বিগত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির তৎকালীন সংসদ সদস্য ও সরাইল বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ভূইয়ার কাছে প্রায় ১০ হাজারের মতো ভোটের ব্যবধানে হেরে যান আওয়ামী লীগ নেতা ও আশুগঞ্জের বাসিন্দা স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন মঈন। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে মঈন উদ্দিন সহজেই পার হতে পারতেন বলে মনে করা হয়।

Check Also

আত্মগোপনে থাকা ইমরান শরীফ র‌্যাব হেফাজতে

আদালতের রায় উপেক্ষা করে ছোট মেয়েকে নিয়ে আত্মগোপনে থাকা জাপানি নাগরিকের বাবা ইমরান শরীফকে উদ্ধার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.