মে দিবস কী, জানে না শ্রমিক সাহিদ-রাসেল

IPL ের সকল খেলা  লাইভ দেখু'ন এই লিংকে  rtnbd.net/live

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বালুচর এলাকার আবু সাহিদ ১৪ বছরের এবং তার বড় ভাই রাসেল ১৭ বছরের কিশোর। দুজনেই স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ত। ২০১৯ সালে পাথর কোয়ারি বন্ধ হয়ে গেলে বাবার একার পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারে নেমে আসে অভাবের কালো ছায়া। এরপর পড়াশোনা বাদ দিয়ে দুই ভাই কাজে যোগ দেয়। বালু ছেঁকে চিপ পাথর সংগ্রহ করে বিক্রি করে তারা।গতকাল রোববার সরেজমিনে কথা হয় আবু সাহিদ ও রাসেলের সঙ্গে। মে দিবস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, কামকাজ করে দিন যায়, এসব দিবসের কথা জানি না। এক গাড়ি চিপ পাথর সংগ্রহ করতে চার-পাঁচ দিন লাগে। বিক্রি করলে দুই-আড়াই হাজার টাকা পাই। গড়ে প্রতিদিন দুই-আড়াই শ টাকা রোজগার হয়। এই টাকা দিয়েই বাবার সাত সদস্যের সংসার চলে।হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার আমিনা বেগম। ভেলাগঞ্জ এলাকার ভাই ভাই ক্রাশার মিলে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ শুরু করি। মেশিনে ভাঙা পাথর মাথায় নিয়ে স্তূপের কাজ করি। এ কাজ করে কোনো দিন ৪৫০ টাকা পাই। কোনো দিন ৩০০ টাকাও পাই। কিন্তু বাজারে গেলে এই টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। কোনো রকমে দিন কাটছে আমাদের।’মো. লায়েক হাসান নামের এক পাথর মিলের পরিচালক জানান, তাঁর মিলে প্রতিদিন ২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে ১০ জনই নারী। আমদানি করা পাথরের ব্যবসা করে লোকসানে রয়েছেন বলে তিনি জানান।কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র পরিষদের (কোছাপ) সভাপতি হেলাল আহমদ বলেন, কোম্পানীগঞ্জ একসময় প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক পাথর পরিবহন করত সারা দেশে। দিন-রাত পাথরের মিলগুলো চলত। তবে নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় এখন ভারত থেকে এলসি করা পাথর দিয়ে বড় ব্যবসায়ীদের মিলগুলো চলছে। অনেক ছোট বা মাঝারি ব্যবসায়ীদের মিল বন্ধ রয়েছে। এলাকার শ্রমিকেরা নানা কাজে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় গেছেন কাজের সন্ধানে। মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে।কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বালু-পাথর উত্তোলন ও বহনকারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার আগে কোম্পানীগঞ্জে লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করতেন। আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন ২০ হাজার সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে শ্রমিকেরা অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে জীবিকার তাগিদে এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কাজ করছেন। আমরা শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে দাবি জানাই দ্রুত সনাতন পদ্ধতিতে বালু-পাথর উত্তোলনের জন্য নদীটি খুলে দেওয়া হোক।’তবে কোম্পানীগঞ্জের পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ শ্রমিক বেকার, কাজ না থাকায় কষ্টে আছেন বিষয়টি মানতে নারাজ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সাদা পাথর এলাকার জন্য ১০ জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। লোক পাইনি। তাহলে মানুষ বেকার বা কষ্টে আছে কীভাবে বুঝব?’ awesome)

Check Also

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: লাঙলের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিটি …