ভোটের হিসাব পাল্টে যাওয়ার শঙ্কা

IPL ের সকল খেলা  লাইভ দেখু'ন এই লিংকে  rtnbd.net/live

যশোর-৩ (সদর উপজেলা) বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসন। পুরোনো হেভিওয়েট প্রার্থীরা বিদায় নিলেও এখন আসনটি দখলে তৎপর নতুন হেভিওয়েটরা। এর মধ্যে রয়েছেন নৌকার টিকিটপ্রত্যাশী বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। আর বিএনপি নির্বাচনে গেলে দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এর বাইরে দুই দল থেকে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী যেমন রয়েছেন; তেমনই জেলার হেডকোয়ার্টার্সখ্যাত এ আসনে অন্য দলের প্রার্থীরাও থাকতে পারেন।রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক কাজী নাবিল আহমেদ এবার এমপি হয়ে হ্যাটট্রিক করতে চাইছেন। সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সামলান বাফুফের সহসভাপতির পদও। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের এই নেতার বেশ ভালোই প্রভাব রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, ভোটের মাঠে বেশ জনপ্রিয় নাম এখন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিএনপি থেকে তিনিই মনোনয়নে এগিয়ে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা-কর্মী। অনেক ভোটার মনে করছেন, বিএনপি নির্বাচনে গেলে এবার বাজিমাত করতে পারেন অমিত। আওয়ামী লীগ থেকে নাবিল ছাড়া মনোনয়ন চাইতে পারেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ। বিএনপিতে অমিতের পাশাপাশি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবুও মনোনয়নপ্রত্যাশী। জাতীয় পার্টি বা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও মাঠে থাকতে পারেন। তবে প্রার্থী হিসেবে কেউ এখনো মাঠে নামেননি।আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, যশোর সদরে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে শাহীন চাকলাদারের সঙ্গে বর্তমান এমপি নাবিলের এক ধরনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সদর উপজেলায় শাহীন চাকলাদারের বেশ প্রভাব রয়েছে।অনুসারী রয়েছে অনেক। তবে ২০২০ সালে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জিতে সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি সেখানে মনোযোগ দেন। এতে সদরের রাজনীতিতে তাঁর রাশ কিছুটা আলগা হয়ে যায়। কিন্তু বিপরীতে ক্লিন ইমেজ খ্যাত কাজী নাবিলের বলয়ে ভিড় করেন বিতর্কিত ও সন্ত্রাসীরা। ফলে তাঁর সেই ইমেজে এখন বেশ ঘাটতি। যদিও গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে সদরে শাহীন ও নাবিল দুই গ্রুপই সক্রিয়। ফলে সদরে কাজী নাবিল আহমেদ যেমন চান তাঁর মনোনয়ন ধরে রাখতে; তেমনই শাহীন চাকলাদারও চান সদরের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে। দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা সেভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।এ ব্যাপারে যশোর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার যশোরের ৬টি আসন নিয়েই কাজ করছেন। নেত্রী দলের প্রয়োজনে যেখানেই মনোনয়ন দেবেন, সেখানেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিজয়ী করবেন।’যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘যশোরের ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত ভালো। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে নজিরবিহীন উন্নয়ন হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ আবারও নৌকার প্রার্থীদেরই বিজয়ী করবেন। যশোর-৩, যশোর-৪ বা যশোর-৫ আসনের যেকোনো একটিতে মনোনয়ন চাইব।’সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সভাপতি হওয়ার কারণে সদরের সব মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ একজন এমপির চেয়ে বেশি। মনোনয়ন চাইব, দিলে ব্যাপক ভোটে জনগণ আমাকে বিজয়ী করবে। সদর ছাড়াও আমি যশোর-৪ ও ৫ আসনে মনোনয়ন চাইব।’অপর দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের জীবদ্দশায় যশোর সদরে বিএনপিতে তাঁর বিকল্প প্রার্থী ছিল না। বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি মারা যান। এরপর সদর আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনিই এখানে বিএনপির মনোনয়নের জোর দাবিদার। এমনকি তাঁর নেতৃত্বেই যশোর বিএনপির দীর্ঘদিনের কোন্দল মিটেছে, সবাই এক কাতারে এসেছেন।অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বিএনপি অংশ নেবে না। কেউ প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নও আসছে না।’ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক দল; নির্বাচনমুখী দল। আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যেতে চাই; কিন্তু সেই নির্বাচনটি হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। এ জন্য আমাদের আন্দোলন চলছে। সেটি সফল হলে আমরা নির্বাচনে যাব।’ awesome)

Check Also

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: লাঙলের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিটি …