গ্যাস-সংকটে ধুঁকছে শিল্প আবাসিকেও বাড়ছে দাম

IPL ের সকল খেলা  লাইভ দেখু'ন এই লিংকে  rtnbd.net/live

দেশে গ্যাসের সংকট ছিল আগে থেকেই। সেই সংকট এখন আরও বেড়েছে। তীব্র গ্যাস-সংকটে পাঁচ দিন ধরে বন্ধ আছে তৈরি পোশাক খাতের অনেক কারখানা। কবে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেটারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই অবস্থার মধ্যেও আবাসিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ কোম্পানি তিতাস।পেট্রোবাংলার তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা ৩ হাজার ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে গড়ে ৬৫০ এমএমসিএফডি এলএনজি আকারে আমদানি করা হয়। বাকি গ্যাস দেশীয় উৎস থেকে আসে।ঘূর্ণিঝড় মোখার আগে গ্যাসের দৈনিক গড় সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গত শুক্রবার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেটা নেমে এসেছিল ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে। তবে গত সোমবার থেকে এলএনজি আংশিক সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে।গ্যাস সরবরাহ শিগগিরই স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার গত সোমবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা উপকূলের কাছে থাকা সামিটের এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে আপাতত এলএনজি শুরু করেছি। তবে পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ শুরু হতে আমাদের এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে।’এদিকে গ্যাস-সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে শিল্প খাতে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সঠিক সময়ে পণ্য উৎপাদন ও জাহাজীকরণ করতে পারছে না তৈরি পোশাক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান। এতে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরির শঙ্কায় আছেন শিল্পমালিকেরা। পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী এমনিতেই অর্থনীতির গতি কমে এসেছে। পাঁচ মাস ধরে রপ্তানিতে ধস দেখা দিচ্ছে। পশ্চিমা ক্রেতারা তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ এমনিতেই কমিয়ে দিয়েছে। তার মধ্যে গ্যাস-সংকটে পড়ে যে অর্ডার আছে, সেগুলো ডেলিভারি করতে না পারলে রপ্তানিমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানা বন্ধ আছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গ্যাস-সংকটের কারণে আমার সব পোশাক কারখানা পাঁচ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ আছে। আমাদের বলা হয়েছে, শিগগিরই গ্যাসের সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো লক্ষণ নেই।’ গ্যাস-সংকটে উৎপাদন করতে না পারার কারণে তৈরি পোশাক খাত প্রতিদিন ১২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলেও দাবি করেন হাতেম। বেশি সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শিল্পকারখানাগুলো এলএনজিনির্ভর হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ধুঁকছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, এলএনজি সরবরাহ শুরুর পর থেকে চট্টগ্রামকে গ্যাসের জাতীয় গ্রিডের বাইরে রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিরূপ আবহাওয়ায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলোর অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে অকেজো হয়ে পড়ে শিল্পকারখানা।চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গেও সংযোগ থাকা দরকার বলে মনে করেন চট্টগ্রামের ওয়েল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়েল ডিজাইনারস লিমিটেডের পরিচালক ও বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।সৈয়দ নজরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এলএনজিনির্ভরতার কারণে চট্টগ্রামে যে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, সেটা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক। চট্টগ্রামকে নিয়ে সামনে যে বিশাল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সরকারের আছে, সেটা এলএনজি সরবরাহ দিয়ে সম্ভব নয়।’আবাসিকে গ্যাসের দাম বাড়াতে চায় তিতাসবিদ্যমান গ্যাস-সংকটের মধ্যেই আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেওয়া প্রস্তাবে তিতাস দুই চুলায় মাসিক গ্যাসের বিল ৫১২ টাকা এবং এক চুলায় ৩৯০ টাকা বাড়ানোর কথা বলেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দেওয়া প্রস্তাবে তিতাসের দাবি, মিটারবিহীন আবাসিক গ্যাসের গ্রাহকেরা রান্নার পাশাপাশি পানি ফোটানোর জন্যও গ্যাস ব্যবহার করেন। এ ছাড়া শিল্প এলাকার শ্রমিকেরা এবং যাঁরা সাবলেটে ভাড়া থাকেন, তাঁরাও অন্যান্য পরিবারের তুলনায় গড়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন। এই জন্য বর্তমানে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে ৩৯ থেকে ৪৭ শতাংশ বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে।গ্রাহকদের বাড়তি গ্যাস ব্যবহারের জন্য যে লোকসান হচ্ছে, সেটা কমাতে আবাসিকে গ্যাসের দাম এক চুলায় ৯৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৭৯ টাকা এবং দুই চুলায় ১ হাজার ৮০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯১ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে তিতাস।গত বছরের জুনে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দাম বাড়ায় বিইআরসি। বিইআরসির পরিচালক (গ্যাস) প্রকৌশলী মহম্মদ আলী বিশ্বাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, মিটার ছাড়া গ্রাহকেরা এক চুলায় ৫৫ ঘনমিটার এবং দুই চুলায় ৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করে ধরে নিয়ে দাম নির্ধারণ করা আছে। তিতাস তাদের প্রস্তাবে বলছে, মিটার ছাড়া গ্রাহকেরা আরও বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন। এই জন্য তাদের লোকসান হচ্ছে।মহম্মদ আলী বিশ্বাস আরও বলেন, ‘তিতাসের এই চিঠি নিয়ে এখনো কমিশনে কোনো বৈঠক হয়নি। কমিশন বৈঠকে তিতাসের এই দাবি কতটুকু যৌক্তিক, সেটা পরীক্ষা করে অনুমোদন পাওয়ার পর আমরা গণশুনানি করব।’এ বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য আমরা বিইআরসির কাছে কোনো আবেদন করেনি। নন-মিটার গ্রাহকেরা এখন অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করছেন। আমরা সেটা সমন্বয় করতে বলেছি।’উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিতাস গ্যাসের মোট ২৮ লাখ ৫৭ হাজার আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ লাখ ২৫ হাজার মিটারবিহীন এবং ৩ লাখ ৩২ হাজার গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের আওতায় রয়েছে।    amazing)

Check Also

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: লাঙলের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিটি …