কাজীপুর থানার ২ এসআই প্রত্যাহার

IPL ের সকল খেলা  লাইভ দেখু'ন এই লিংকে  rtnbd.net/live

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লাভলু ইসলামকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার দুই উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—আবুল হোসেন ও শহিদুল ইসলাম শহিদ। আজ বুধবার সকালে কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত তথ্যটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাঁদের প্রত্যাহার করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লাভলু ইসলাম গত সোমবার সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (রাজশাহী) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার উপপরিদর্শক আবুল হোসেন ও শহিদুল ইসলাম শহিদসহ সঙ্গীয় দুজন ফোর্স নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানাধীন রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লাভলু ইসলামের বাড়িতে কোনো অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই অনধিকার প্রবেশ করে তাঁকে ধরে নিয়ে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায়। স্থানীয় প্রায় ৪০-৫০ জন লোকের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় লাভলু ইসলাম তল্লাশির কারণ জানতে চাইলে এসআই আবুল হোসেন তাঁকে নানাবিধ গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।  একপর্যায়ে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স চেক করতে হবে মর্মে তাঁকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে মহিষামুড়া চৌরাস্তা বাজারের পূর্বপাশে মহিলা মাদ্রাসার পেছনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে এবং তাঁর কাছে থাকা সিমেন্ট বিক্রির ৩০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এরপর লাভলু ইসলামের চোখ বেঁধে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে মামলায় ফাঁসানোসহ বেধড়ক মারপিটের ভয় দেখানো হয়। লাভলু ইসলাম রতনকান্দি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান গনি ও আব্দুস সাত্তারকে ফোন দিয়ে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে মহিষামুড়া মহিলা মাদ্রাসার পেছনে আসতে বলে। লাভলু ইসলামের ফোনের সূত্র ধরে রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, একডালা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ঘাটুর পুত্র আব্দুস সাত্তারসহ ৫-৭ জন ঘটনাস্থল মহিষামুড়া এসে উপস্থিত হন। এ সময় লাভলু ইসলামের কাছে দাবিকৃত ৩০ হাজার টাকা নিয়ে উপপরিদর্শক (এস. আই) আবুল হোসেন ও এস, আই শহিদুল ইসলাম শহিদের সঙ্গে দেন-দরবার হয়। একপর্যায়ে আরও ১০ হাজার টাকা তাঁদের দেওয়া হয়। এভাবে লাভলুর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ৩০ হাজার ও পরবর্তীতে দরবারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে লাভলুকে দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ছেড়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় একডালাসহ রতনকান্দি ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর সোমবার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লাভলু ইসলাম ন্যায় বিচার দাবিসহ তদন্তপূর্বক দুই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি চেয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগটি আমি পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ amazing)

Check Also

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: লাঙলের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিটি …