৬৪ কেজি সোনা চোরাচালান মামলায় চারজনকে দশ বছরের কারাদণ্ড

IPL ের সকল খেলা  লাইভ দেখু'ন এই লিংকে  rtnbd.net/live

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৪ কেজি সোনা আটকের ঘটনায় দায়ের করা চোরাচালান মামলায় চার আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এই রায় দেন। রায়ে অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফিউচার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আল আমিন, সৃষ্টি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জালাল আহম্মেদ, কাউসার আহম্মেদ ওরফে বাপ্পী ও জলিল মিয়া প্রকাশ জালাল।কারাদণ্ডের পাশাপাশি চার আসামির প্রত্যেককে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়।এই মামলায় আসামি সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. হাশেম ওরফে আবুল হাশেম ও আলমগীর হোসেন ওরফে মো. আজিজুল হক, মো. ফরহাদুল ইসলাম সুমন, জুয়েল রানা ও আবদুল লতিফকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. মাজহারুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিশাল চোরাচালান মামলায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। চারজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।সিঙ্গাপুর প্রবাসী আবুল হাশেম, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফিউচার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আল আমিন, সৃষ্টি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জালাল আহম্মেদ, কাউসার আহম্মেদ ওরফে বাপ্পী ও মো. ফরহাদুল ইসলাম সুমন পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে আবুল হাশেম ও ফরহাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর অথবা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করার পর সাজা কার্যকর হবে।কারাগারে থাকা চার আসামিকে রায়ের সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে আবার তাঁদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। খালাস প্রাপ্ত আসামি আলমগীর হোসেন ওরফে আজিজুল হক, জুয়েল রানা ও আব্দুল লতিফকে অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।ঘটনার বিবরণে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আসা একটি বিমানে আমদানি করা কাঠের ক্যারেট আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে আটক করে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। চারটি কাঠের ক্যারেট তল্লাশি করে তার মধ্যে তৈরি করা বিশেষ কোটরে ৬৪০ পিস সোনার বার পাওয়া যায়। যার তখনকার বাজার মূল্য ছিল ৩২ কোটি টাকা।আমদানিকারক কোনো ব্যক্তিকে না পেয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিভেনটিভ মো. আকরামুল হক নিটোল ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে পরদিন বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।মামলার এজাহারে বলা হয়, এয়ার ওয়ে বিল মোতাবেক উক্ত কাঠের ক্যারেটের আমদানিকারক ছিল ফিউচার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড, ডাই জিএম- ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এমএম এইচএসআইএ নামক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।মামলাটি তদন্ত করেন বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ। তিনি ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।অভিযোগপত্রে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো. হাশেম ওরফে আবুল হাশেম ও মো. আলমগীর ওরফে মো. আজিজুল হক এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফিউচার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আল আমিন, সৃষ্টি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জালাল আহম্মেদ, জলিল মিয়া প্রকাশ জালাল, কাউসার আহম্মেদ ওরফে বাপ্পী, মো. জুয়েল রানা ওরফে সদর, আব্দুল লতিফ ও মো. ফরহাদুল ইসলাম সুমনকে আসামি করা হয়। awesome)

Check Also

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: লাঙলের প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিটি …