ঢাবির হলে মদ-বিয়ার খেয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

ঢাবির হলে মদ-বিয়ার খেয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে মদ-বিয়ারের আসর ও জোরে গান গাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০‌ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলের মধ্যে রড-স্ট্যাম্প নিয়ে মহড়াও দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে হলের ছাদে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনের অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী হল ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী জানান, রাত ১১টার দিকে হল ছাত্রলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন রানার সক্রিয় কর্মী মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফরিদ সভাপতি রানার কাছ থেকে টাকা নিয়ে মদ নিয়ে আসেন। রাত ১টা পর্যন্ত ফরিদ ও তার গ্রুপের কর্মীরা তাদের মদের আসর জমাতে থাকেন। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ফরিদ রাত বারোটার দিকে হল বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করেন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনের গ্রুপের রাহী, শান্তসহ প্রায় ২০-২৫ জন নেতাকর্মী ওই হলের ছাদে বসে বিয়ার খাচ্ছিলেন। তারা উচ্চস্বরে গানও গাইছিলেন। কিন্তু, রাত দেড়টার দিকে মদ ও বিয়ার খাওয়ার জেরে বাকবিতণ্ডায় জড়ান দুই দল। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সভাপতির দলের ফরিদ সাধারণ সম্পাদক দলের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহীকে চড় দিলে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে গুরুতর আহত হন সাধারণ সম্পাদকের দলের শান্ত নামের এক শিক্ষার্থী।

পরিস্থিতির অবনতি হলে রানার দলের প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনস বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত সোপান ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের থিয়েটার অ্যান্ড পার্ফর্মেন্স বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী অথৈ প্রথম বর্ষের ছাত্রদের স্ট্যাম্প, রড নিয়ে আসার জন্য‌ নির্দেশ দেন। এতে সভাপতি রানার দলের অন্তত ৫০ থেকে ৬০ ও সাধারণ সম্পাদক রুবেলের দলের ৫০ জনের মতো প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা রড, স্ট্যাম্প নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এগিয়ে আসেন সভাপতি রানা ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল। পরে রাত আড়াইটার দিকে তারা দুজনে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

দকে মদের আসরের বিষয়টি অস্বীকার করেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা বলেন, মদের আসরের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। হলের সিনিয়র-জুনিয়রদের মাঝে তর্কাতর্কি হয়। পরে আবার গিয়ে তাদেরকে থামায় তবে সেখানে মাদক সেবনের কোনো আলামত পাইনি। তবে কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব এবং হল প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনকে একাধিকার ফোন করা হলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম বলেন, বিষয়টা আমি জেনেছি। সকাল থেকেই হলের হাউজ টিউটর, স্টাফ, ছাত্রসহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সবার সাথে কথা বলে যেটা জেনেছি, হলের ছাদে ওঠা ও গান বাজনা নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রদের মাঝে ঝগড়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা আপাতত হলের ছাদে ওঠা নিষিদ্ধ করে দিয়েছি এবং তালা দিচ্ছি। আর হল প্রশাসন এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net