ফরিদপুর মহানগর বিএনপিতে পদ পেলেন মৃত ব্যক্তি!

ফরিদপুর মহানগর বিএনপিতে পদ পেলেন মৃত ব্যক্তি!

অনুমোদনের সাড়ে চার মাস পর ফরিদপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৩১ সদস্যের করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে মহানগর বিএনপিতে মৃত ব্যক্তিও পদ পেয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছাকে আহ্বায়ক ও এ কে কিবরিয়া স্বপনকে সদস্য সচিব করে ১৯ সদস্যের জেলা এবং এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গিকে আহ্বায়ক ও গোলাম মোস্তফাকে সদস্য সচিব করে মহানগর কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্র। এখন দুটি কমিটিতেই নতুন যুক্তদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। ফলে জেলা কমিটিতে নয়, যুগ্ম আহ্বায়কের সঙ্গে ২০ সদস্য এবং মহানগরে ১১ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৮ জন সদস্য হলেন। কিন্তু গত ২০ এপ্রিল মোস্তফা মাহমুদ পরাগ মারা গেলেও তাঁকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি বলেন, এক নম্বর সদস্য মোস্তফা মাহমুদ পরাগের মৃত্যুর বিষয়টি বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সভায় জানানো হয়েছে। সেখানে তাঁর জন্য শোক প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। এরপরও কমিটিতে কীভাবে তাঁর নাম এসেছে, বুঝতে পারছি না।

জেলা কমিটিতে যুক্ত নতুন সদস্যরা হলেন- আব্দুল লতিফ মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আমিনুল ইসলাম, নূরুজ্জামান চৌধুরী, প্রিন্সিপাল সেলিম মিয়া, সেলিম মিয়া, শামীম হোসেন, মারুফ হোসেন, ইকবাল খান, মামুনুর রশিদ, নাজরীন রহমান ও হান্নান মিয়া। অন্যদিকে, মহানগর কমিটির নতুন সদস্যরা হলেন রেজাউল ইসলাম, সাজ্জাদ শাওন, মিজানুর রহমান, মজিবর রহমান, ফরহাদ হোসেন, শিশির কুমার রায়, জোনায়েদ আজগর, আতিকুল ইসলাম, সোহরাব মিয়া, লিপু শেখ, ইসমাইল হোসেন লাবলু, জাহিদ হোসেন, এ কে আজাদ ও নিতাই রায়।

সম্প্রসারিত কমিটি নিয়ে ফরিদপুরের বিএনপি রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের দাবি, কমিটিতে যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়নি। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন বলেন, কমিটি বাড়ানোর নামে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা দেখে প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। বিএনপির রাজনীতি করতে হলে আমাদের কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।

২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর জেলা বিএনপির সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এর দুই বছর পর গত ১৫ এপ্রিল জেলা ও মহানগর বিএনপির দুটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net