ডিবি পরিচয়ে মাইক্রোতে তোলার পর বলেন, স্যার ভুল ইনফরমেশন, কী করব, ছেড়ে দেব?

ডিবি পরিচয়ে মাইক্রোতে তোলার পর বলেন, স্যার ভুল ইনফরমেশন, কী করব, ছেড়ে দেব?

ভুক্তভোগীরা হলেন- উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী এলাকার মৃত আব্দুল্লাহ ভূঁইয়ার মনির হোসেন (৫০) ও তার শ্যালক একই এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে প্রবাসী রমজান ভূঁইয়া (৪৭)।এ ঘটনায় শুক্রবার (০৯ সেপ্টেম্বর) মনির হোসেন রূপগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।গত বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার গন্ধর্বপুর হাজিবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মনির সময় সংবাদকে বলেন, দীর্ঘ ২ ঘণ্টা তাদের মাইক্রোবাসে করে তুলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। চোখ বাঁধা বলে লোকেশন জানা যায়নি। এর কিছুক্ষণ পর একজন মোবাইল ফোনে একজনকে বলেন, ‘স্যার, মিসটেক, ভুল ইনফরমেশন। স্যার, কী করব, ছেড়ে দেব?’ মোবাইল ফোনে এই আলাপের পর দুপুর ১টায় গাড়িটি ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ভুলতা আদুরিয়া এলাকায় থামিয়ে আমাদের দুজনকে তারা নামিয়ে দিয়ে যায়। গাড়ি থেকে নামানোর সময় আমাদের পেছনে তাকাতে নিষেধ করেন। তাকালে গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেয়া হয়। পরে গাড়িটি নরসিংদীর দিকে চলে যায়।

মনির হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, জমি রেজিস্ট্রির জন্য বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি ও তার শ্যালক রমজান ভূঁইয়া ইজিবাইকে রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে যাচ্ছিলেন। গন্ধর্বপুর হাজিবাড়ি এলাকায় তারা পৌঁছালে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস সামনে এসে তাদের গতিরোধ করে। পরে গাড়ি থেকে নেমে আসা পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের চোখ বেঁধে ওই গাড়িতে তুলে নেয়।

তাদের দুজনকে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে সঙ্গে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা, দুটি দামি মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়। তাদের গায়ের পোশাকে ডিবি লেখা ও হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে ডিবি পরিচয়ধারীরা স্টিলের রেঞ্জ দিয়ে তার শ্যালক রমজানের মাথায় আঘাত করে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে অপহরণকারী চক্রের ৭ সদস্য আটক

ছাড়া পাওয়ার পর শ্যালককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই। তার মাথায় আঘাত গুরুতর হওয়ায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতরা যাই হোক, তাদের পরিচয় যেটাই হোক, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী মনির হোসেন।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা ডিবি পুলিশের কেউ এই ধরনের কোনো অভিযান চালায়নি। আমার কাছে এমন কোনো তথ্য বা অভিযোগও আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আমীর খসরু সময় সংবাদকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বহিরাগত অপরাধ চক্র ভুয়া ডিবি ও কাস্টমস অফিসার সেজে ছিনতাই করছে। অভিযান চালিয়ে ভুয়া ডিবি পরিচয়ধারী কয়েকজন প্রতারককে ইতিপূর্বে গ্রেফতারও করেছি।

তিনি আরও বলেন, রূপগঞ্জের ভুক্তভোগী মনির হোসেনের বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি এবং ভুয়া ডিবি পরিচয়ধারী চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে ওসিকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net