গ্রাম আদালতে শিশুদের বিচার করায় চেয়ারম্যানের সমালোচনা

গ্রাম আদালতে শিশুদের বিচার করায় চেয়ারম্যানের সমালোচনা

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম আদালতে শিশু-কিশোরদের বিচার করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক চেয়ারম্যান। আইনবিদরা বলছেন এটি শিশু আইনের লঙ্ঘন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, এতে বাড়াবাড়ি হয়েছে।

তবে শনিবারের এ ঘটনায় নিজের এখতিয়ার সম্পর্কে অন্ধকারে আছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইনের ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা।

জানা গেছে, আখ চুরির অভিযোগে গ্রাম আদালতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর বিচার করা হয়েছে। তারা স্থানীয় বৈলশিং চকবাবন দাখিল মাদ্রাসার ৮ম ও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একজন ভ্যানচালক, সবার বয়স ১৩-১৫ বছরের মধ্যে। বিচারে অভিযুক্তদের অভিভাবকের কাছ থেকে ১২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে এজলাস কক্ষে জনসম্মুখে শিশুদের চড়-থাপ্পড় ও কান ধরে উঠ-বস করানো হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হারুন অর রশীদসহ এলাকার মাতুব্বররা। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন চেয়ারম্যান মোস্তফা।

নওগাঁ জেলা জজকোর্টের আইনজীবী মহসীন রেজা বলেন, আইন অনুযায়ী- শিশুদের বিচার করার এখতিয়ার রাখেন না ইউপি চেয়ারম্যানরা। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে সেটি বাড়াবাড়ি হয়েছে।

ঢাকা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি খুবই ছোট। শিশুদের গ্রাম আদালতে না নিয়ে চেয়ারম্যান স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরে ঘরে নিষ্পত্তি করে দিতে পারতেন। এটি শিশু আইনের চরম লঙ্ঘন।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সাইদুর রহমান বলেন, আঠারো বছরের নিচে কারও বিচার গ্রাম আদালতে করা যাবে না। শিশুদের বিচার হবে শিশু আদালতে। কোনো শিশুর বিচার গ্রাম আদালতে করা হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ।

গ্রাম আদালতের বিচারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, এলাকার স্বার্থে ও অভিযুক্তদের সংশোধন করতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তাদের ভয়ভীতি দেখাতে জরিমানাও করা হয়। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

শিশুদের বিচারের এখতিয়ার তাঁর আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত আইন আমার জানা নেই।

মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান বলেন, আখ চুরির সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্তরা শিশু হওয়ায় স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করে দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইউএনও আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, গ্রাম আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শিশুদের বিচার করে থাকলে সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বাড়াবাড়ি করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net